রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১

আল কোরআন, রমযানের রোযা ও তার শিক্ষা --- ডাঃ এস. এম. আখতারুজ্জামান(সুমন)

 আল কোরআন, রমযানের রোযা ও তার শিক্ষা

ডাঃ এস. এম. আখতারুজ্জামান(সুমন)


সাওম বা রোযার অর্থ ঃ

বিরত থাকা বা ফিরে থাকা। সুবেহ সাদিক হতে ইফতার এর আগ মুহুর্ত (সূর্যাস্ত) পর্যন্ত কোন রকম পানাহার ও যৌন সম্ভগ হতে বিরত থাকার নাম ই রোযা বা সাওম। অবশ্য সকল প্রকার পাপ থেকে বিরত থাকার নাম ই রোযা বা সাওম।

হাদীস ঃ রাসূল (সা) বলেছেন : “যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা ও তদনুযায়ী আমল করা বর্জন করেনি, তার রোযা রাখার মাধ্যমে পানাহার পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই”। (মিশকাত)

রাসূল (সা) বলেছেন : এমন অনেক রোযাদার আছে, যে রোযায় ক্ষুধা- তৃষ্ণা ভোগ করা ছাড়া তাদের নেকির পাল্লায় আর কিছু পড়ে না। (মিশকাত)

শিক্ষা ঃ আল্লাহর আদেশ-নিষেধ পালন করা ও সকল প্রকার পাপ থেকে নিজেকে পবিত্র রেখে তাকওয়া অর্জন করাই রোযার মূল শিক্ষা।

রোযা যাদের উপর ফরযঃ 

হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল। এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার (আল্লাহ ভীরুতার) গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে। (সূরা বাকারা- ১৮৩) 

উক্ত আয়াতে ‘হে ঈমানদারগণ’ বলে সম্বোধন করে ঈমানদারদের উপর আল্লাহ রমজানের রোযাকে ফরজ করেছেন।

ঈমানের সংজ্ঞা ঃ

আমরা জানি ঈমান তিনটি কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ১. অন্তরে দৃঢ় বিশ^াস করা, ২. মুখে স্বীকার করা, ৩ বাস্তব জীবনে তার (ইসলামের সকল বিষয়ে) বাস্তবায়ন করার নামই ঈমান।

রমযানের রোযা ফরজ হওয়ার প্রেক্ষাপটঃ

রাসূল (সা:) এর দ্বিতীয় হিজরীতে রমজান মাসে মুসলিম বাহীনি ও কাফের-মুশরিক বাহীনির অর্থাৎ বাতিল মতাদর্শের সাথে বা মানব রচিত মতবাদদের মধ্যে বদর যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ইসলাম টিকে থাকবে কি থাকবেনা এমন পরিস্থিতিতে বদর যুদ্ধ সংগঠিত হয়। বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী ঈমানদ্বারদের উপর আল্লাহ খুশি হয়ে ১৭ই রমজান রোযাকে ফরজ করেছেন। 

শিক্ষাঃ যারা কুরআন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত থাকবে তাদের মত ঈমানদারদের উপর রমজানের রোযা ফরজ। এখন যারা কুরআন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে লিপ্ত নেই রমজান তাদেরকে কুরআন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশগ্রহনের জন্য আহবান করে।

রোযা ফরজ হওয়ার উদ্দেশ্যঃ

সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতের শেষে “আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার (আল্লাহ ভীরুতার) গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে।”

তাকওয়ার উদাহরণঃ যখন কোন ব্যক্তি গভীর বনের মধ্য দিয়ে পার হয়, তিনি জানেন সেখানে জীবন নাশ করা জন্তু জানোয়ার আছে, যে কোন সময় আক্রমন করে জীবন শেষ করে দিতে পারে। তখন তিনি প্রতিটি পদক্ষেপ খুব সাবধানে ফেলবেন। এমনকি এক পা সামনে দিলে ভয়ে বা শতর্কতাবশত দুই পা পিছনে ফিরে আসে। এর নাম হচ্ছে দুনিয়ার জীবন নাশের ভয়। ঠিক তেমনি দুনিয়াটা একটি গভীর বন - জংগল। এই বনে প্রতিটি মুহুর্তে আল্লাহর সাথে নাফারমানী, রাসূল (সাঃ) এর সাথে দুশমনি হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আল্লাহর ভয়ে দুনিয়ায় প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবে চিন্তে ফেলতে হবে এবং সন্দেহ থাকলে সে কাজ থেকে ফিরে এসে সন্দেহমুক্ত কাজ করতে হবে এবং সব সময় আল্লাহর পছন্দ অপছন্দ দেখে অপছন্দ কাজ পরিহার করে পথ চলার নামই তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতি। অবশ্য সরাসরি কুরআন-হাদীস থেকে জ্ঞান অর্জন করে তাকওয়া অর্জন করা সহজ হবে।

আল কুরআনে তাকওয়া ঃ

“(আজ তারাই এ রহমতের অংশীদার) যারা এ প্রেরিত উম্মী নবীর আনুগত্য করে, যার উল্লেখ নিকট এখানে তাওরাত ও ইনজিলে লিখিত অবস্থায় পাওয়া যায়। সে তাদের সৎ কাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে বিরত রাখে, তাদের জন্য পাক পবিত্র জিনিসগুলো হালাল ও নাপাক জিনিসগুলো হারাম করে এবং তাদের ওপর থেকে এমন সব বোঝা নামিয়ে দেয়। যা তাদের ওপর চাপানো ছিল আর এমন সব বাঁধন থেকে তাদেরকে মুক্ত করে যাতে তারা আবদ্ধ ছিল। কাজেই যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সাহায্য সহায়তা দান করে এবং তার সাথে অবতীর্ন আলোক রশ্মিও (কুরআন) অনুসরন করে তারাই সফলতা লাভের অধিকারী”। (সূরা আল আরাফ- ১৫৭)

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সহযোগি হও”। (সূরা আত তাওবা- ১১৯)

“হে ঈমানদারগণ! সত্য অস্বীকারকারীদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। জেনে রেখো আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন”। (সূরা আত তাওবা- ১২৩)

“কাজেই তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং (নির্দ্বিধায়) আমার (রাসূলের) আনুগত্য করো”। সূরা আশ-শুআরা ১০৮,১১০,১২৬,১৩১,১৪৪,১৫০,১৬৩,১৭৯)

“হে ঈমানদাররা, আল্লাহকে ভয় করো। আর প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য রাখে, সে আগামীকালের জন্য কি প্রস্ততি নিয়ে রেখেছে। আল্লাহকে ভয় করতে থাক। আল্লাহ নিশ্চিতভাবেই তোমাদের সেই সব কাজ সম্পর্কে অবহিত যা তোমরা করে থাক”। (সূরা আল-হাশর - ১৮)

“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিৎ তেমনিভাবে ভয় করতে থাকো। এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরন করো না”। (সূরা আল ইমরান - ১০২)  

আল হাদীসে তাকওয়াঃ

আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর যুলুম করবে না, তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগও করবে না এবং তাকে তুচ্ছ জ্ঞান করবে না। তিনি নিজের বুকের দিকে ইশারা করে বলেন, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে, তাকওয়া এখানে। কোন লোকের নিকৃষ্ট সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। প্রতিটি মুসলমানের জীবন, ধন-সম্পদ ও মান-সম্মান সকল মুসলমানের সম্মানের বস্তু(এর উপর হস্তক্ষেপ করা তাদের জন্য হারাম) । (মুসলিম)

হাসান ইবনে আলী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সা) এর জবান মুবারক হতে এই কথা মুখস্ত করে নিয়েছি , যে জিনিস সংশয়ের মধ্যে ফেলে দেয় তা পরিত্যাগ করে যা সন্দেহের উর্ধে তা গ্রহণ কর। কেননা সততাই শান্তির বাহন এবং মিথ্যাচার সন্দেহ সংশয়ের উৎস। (তিরমিযী)

আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, হে আয়েশা! ছোটখাট গুনাহর ব্যাপারেও সতর্ক হও। কেননা এ জন্যও আল্লাহর কাছে জওয়াবদিহি করতে হবে। (ইবনে মাজা)

শিক্ষা ঃ পরকালে আল্লাহর আযাব, কেয়ামতের কঠিন ময়দানে দুনিয়ার সকল সময়ের ও কাজের হিসাব দিহিতা ও আল্লাহর ভয় সৃষ্টির মাধ্যমে আল্লাহ ও রাসূল (সা) এর আনুগ্রত্যর মাধ্যমে জীবন পরিচালনা করার নাম ই তাকওয়া। যে শিক্ষা রোযার মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনার কথা আল্লাহ ঘোষণা করেছেন।

রমযান মাসে কিছু লোভনীয় অফার বা তাৎপর্য ঃ 

রোযার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা) বলেন : “মানুষের প্রতিটি নেক কাজের ফল দশগুন থেকে সাতাশগুন পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়ে থাকে। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন, রোযা এর ব্যতিক্রম। কারণ, রোযা বিশেষভাবে কেবলমাত্র আমারই জন্য রাখা হয়। আর আমি নিজেই এর প্রতিদান দান করবো। (বুখারী, মুসলিম)

রাসূল (সা) বলেছেন : “যে ব্যক্তি ঈমান ও সচেতনতার সাথে রমযানের রোযা রাখে তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (আলমগীরি)

রাসূল (সা) বলেছেন : যখন রমযানের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও অবাধ্য জীনগুলোকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। দোজখের সকল দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়, তার কোন একটা দরজাও খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের সকল দরজা খুলে দেয়া হয়, তার একটি দরজা ও বন্ধ রাখা হয় না। তারপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন আহবানকারী বলতে থাকে, যারা মঙ্গল ও কল্যাণ চাও তারা এগিয়ে এসো। আর যারা পাপাচার করতে চাও, তারা থাম। তারপর আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক গুনাহগার বান্দাকে দোজখ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। আর এ কাজ রমজানের প্রতি রাতেই হয়। (তিরমিযি, ইবনে মাজাহ)

রমযান মাস এমন একটি মাস যে মাসে মুমিনদের রুজি বৃদ্ধি করা হয়।(মিশকাত)

রমযান মাসে কেউ যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোনো নফল ইবাদত করে, সে অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের সওয়াব পাবে। আর যে একটি ফরয আদায় করবে সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরয ইবাদতের সওয়াব পাবে। (মিশকাত)

“রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মিশকের সুগন্ধী থেকেও উৎকৃষ্টতম”। রোযা গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার ঢালস্বরূপ”। (সহীহ বুখারী)

রোযার মাস এত মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণ ঃ

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীতে এক বছরকে ১২ টি মাসে, এক মাস কে ৩০/৩১ দিনে ভাগ করেছেন। আল্লাহর তৈরি করা প্রতিটি মাস বা দিন সমান। কোন মাস বা দিনের আলাদা তেমন কোন গুরুত্ব নেই। কিন্তু রমযান মাস কে কেন এত গুরুত্বপূর্ন বলা হলো? কেন এত অফার প্রদান করলেন? 

পৃথিবীতে মানব সৃষ্টির শুর থেকে শেষ নবী পর্যন্ত নবীদের মাধ্যমে যত মুজিজা এসেছে এবং যে মুজিজার সূফলতা বিচার দিবস পর্যন্ত থাকবে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম মুজিজা হচ্ছে আল কুরআন। যা আল্লাহর নিজস্ব ভাষা এবং লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিল। এই শ্রেষ্ঠ মুজিজা আমাদের পিয় নবী মুহাম্মাদ (সা) এর উপর নাযিল হয়। যে মুজিজা নাযিল হওয়ার ব্যাপারে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন- যদি পাহাড়ের উপর এই কুরআন নাযিল করা হতো তাহলে তুমি দেখতে পেতে তা আল্লাহর ভয়ে ধসে পড়েছে এবং ফেটে চেীচির হয়ে যাচ্ছে।(সূরা আল হাশর - ২১)। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এই শ্রেষ্ঠ কিতাব, সংবিধান, গাইডলাইন রমযান মাসে নাযিল করেছেন বলে এই রমযান মাস কে এত গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআন নাযিল উপলক্ষে সূরা কদরের প্রথম আয়াতে বলেছেন - “আমি এই কুরআনকে  কদরের রাতে অবতীর্ণ করেছি”। আর আল্লাহ এই কুরআনকে লাইলাতুল কদরে নাযিল করার কারনে লাইলাতুল কদরকেও বিশেষ সন্মানে ভ’ষিত করলেন। “লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও উত্তম” । (সূরা আল কদর- ৩)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রমযান মাসে এই কুরআন নাযিল নিয়ে সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে বলেছেন- রমযানের মাস, এই মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে। 

শিক্ষা ঃ ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক জীবন পর্যন্ত আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যে সংবিধান, গাইডলাইন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কিতাব আল-কুরআন নাযিল করেছেন তা এই পবিত্র রমযান মাসে। তাই এই রমযান মাসকে কুরআনের উছিলায় এত মর্যদাপূর্ণ করা হয়েছে। 

কুরআন কি?

আল্লাহ তোমার ওপর কিতাব ও হিকমত নাযিল করেছেন, এমন সব বিষয় তোমাকে শিখিয়েছেন যা তোমার জানা ছিল না এবং তোমার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ অনেক বেশি।  সূরা নিসা-– ১১৩

আমি একে আরবী ভাষায় কুরআন বানিয়ে নাযিল করেছি, যাতে তোমরা একে ভালোভাবে বুঝতে পারো।   সূরা ইউসুফ - ২

এভাবেই  (হে মুহাম¥াদ), আমি আমার নির্দেশে তোমার কাছে দ্বীনের এ রুহকে অহী করে পাঠিয়েছি। নতুবা তুমি আদৌ জানতে না কিতাব কি এবং ঈমানই বা কি?  সূরা  আশ শুরা - ৫২

আল্লাহ সর্বোত্তম বাণী নাযিল করেছেন, এমন একটি গ্রন্থ যার সমস্ত অংশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূরা আয যুমার - ২৩

তারপর আমি এমন লোকদেরকে এ কিতাবের উত্তরাধিকারী করেছি যাদেরকে আমি (এ উত্তরাধিকারের জন্য) নিজের বান্দাদের মধ্য থেকে বাছাই করে নিয়েছি। সূরা ফাতের - ৩২

আমি এদের কাছে এমন একটি কিতাব নিয়ে এসেছি  যাকে পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদ ব্যখ্যামূলক করেছি এবং যা ঈমানদারদের জন্য পথ নির্দেশনা ও রহমত স্বরুপ। সূরা আল আরাফ- ৫২

এটি এমন এক গ্রন্থ যার আয়াতসমুহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। আরবী ভাষার কুরআন, সেই সব লোকেদের জন্য যারা জ্ঞানের অধিকারী। সূরা হা-মীম আস সাজদাহ - ৪১


তিনিই তোমাদের প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছেন। সূরা আলে ইমরান - ০৭

হে লোকেরা! আমি তোমাদের  প্রতি এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যার মধ্যে তোমাদেরই কথা আছে, তোমরা কি বুঝ না ?  সূরা আল আম্বিয়া - ১০ 

আরো তথ্যের জন্য- ১৬/৮৯, ৪২/১৭,  ৬/৫৯, ৬/১১৪, ৫/১৫, ৪১/৩, ৪৩/২, ৪৪/২, ৭/১৯৬, ১০/১, ৬১, ২/১৪৬, ১৭৪, ২১৩ নং আয়াত দ্রষ্টব্য।

কুরআন কেন?

এটি আল্লাহ ভীরুদের হিদায়াতের জন্য। সূরা বাকারা -২

যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াতের জন্য। সূরা বাকারা - ১৮৫

রমজান মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ¦্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য- সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়। বাকারা- ১৮৫

আমি এ কুরআনকে উপদেশ লাভের সহজ উৎস বানিয়ে দিয়েছি। এমতাবস্থায় উপদেশ গ্রহনকারী কেউ আছে কি? সূরা আল ক্বামার - ১৭,২২,৩২,৪০।

হে নবী! আমি সত্য সহকারে এই কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যে সঠিক পথ দেখিয়েছেন সেই অনুযায়ী তুমি লোকদের মধ্যে ফায়সালা করতে পারো। তুমি খেয়ানতকারী ও বিশ^াস ভংগকারীদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হয়ো না। আন নিসা- ১০৫।

এটি তোমার প্রতি নাযিল করা একটি কিতাব। কাজেই তোমার মনে যেন এর সম্পর্কে কোন সংকোচ না থাকে। এটি নাযিল করার উদ্দেশ্য  হচ্ছে, এর মাধ্যমে তুমি অস্বীকারকারীদের ভয় দেখাবে এবং মুমিনদের জন্য এটি হবে একটি স্মারক। আল আরাফ- ২।

এটা হচ্ছে পথ নির্দেশ ও সুসংবাদবাহী গ্রন্থ মুমিনদের জন্য। সূরা আন নামল - ০২

বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি যিনি এ ফুরকান তাঁর বান্দার ওপর নাযিল করেছেন যাতে সে সারা বিশ^াসীর জন্য সতর্ককারী হয়।সূরা আল- ফুরকান - ১।

আমি এদের কাছে এমন একটি কিতাব নিয়ে এসেছি  যাকে পূর্ণ জ্ঞানের ভিত্তিতে বিশদ ব্যখ্যামূলক করেছি এবং যা ঈমানদারদের জন্য পথ নির্দেশনা ও রহমত স্বরুপ। সূরা আল আরাফ- ৫২

আরো তথ্যের জন্য - ১৪/১, ৫৪/২২,৩২,৪০, ১৬/৮৯, ৬৪, ৭/২০৩, ৪১/৪৪ নং আয়াত দ্রষ্টব্য। 

সন্দেহ দুর - 

এটি আল্লাহর কিতাব, এর মধ্যে কোন সন্দেহ নেই। সূরা বাকারা - ২

এ কিতাবটি রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এতে কোন সন্দেহ নেই। আস সাজদাহ -২ 

আলিফ-লামÑর। একটি ফরমান। এর আয়াতগুলো পাকাপোক্ত এবং বিস্তারিতভাবে বিবৃত হয়েছে, এক পরম প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞ সত্তার পক্ষ থেকে। সূরা হুদ - ২

আলিফ-লামÑর। এগুলো এমন কিতাবের আয়াত যা নিজের বক্তব্য পরিস্কারভাবে বর্ননা করে। ইউসুফ -১।

চ্যালেঞ্জ----  বাকারা - ২৩,  হুদ - ১৩, বনী ইসরাঈল - ৮৮, 

পূর্ব কিতাবের উপর বিশ^াস- 

তিনি তোমার ওপর এই কিতাব নাযিল করেছেন, যা সত্যের বাণী বহন করে এনেছে এবং আগের কিতাবগুলোর সত্যতা প্রমাণ করেছে। এর আগে তিনি মানুষের হিদায়াতের জন্য তাওরাত ও ইঞ্জিল নাযিল করেছিলেন। আর তিনি মানদন্ড নাযিল করেছেন (যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করে দেয়)। সূরা আল ইমরান - ৩

আর স্মরণ করো ঈসা ইবনে মারইয়ামের সেই কথা যা তিনি বলেছিলেন: হে বনী ঈসরাইল, আমি তোমদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল। আমি সেই তাওরাতের সত্যতা প্রতিপাদনকারী যা আমার পূর্বে এসেছে এবং একজন রসূলের সুসংবাদদাতা যিনি আমার পরে আসবেন, যার নাম আহমাদ। সূরা আস সফ - ৬। 

কুরআনের দাবী ঃ

“রমজান মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ¦্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য- সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয়”। বাকারা- ১৮৫

“হে নবী! আমি সত্য সহকারে এই কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে আল্লাহ তোমাকে যে সঠিক পথ দেখিয়েছেন সেই অনুযায়ী তুমি লোকদের মধ্যে ফায়সালা করতে পারো। তুমি খেয়ানতকারী ও বিশ^াস ভংগকারীদের পক্ষ থেকে বিতর্ককারী হয়ো না”। আন নিসা- ১০৫।

“আল্লাহর নাযিল করা আইন অনুযায়ী যারা ফায়সালা করে না তারাই কাফের, জালেম, ফাসেক”। সূরা আল মা-য়েদাহ - ৪৪,৪৫,৪৭

“তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে আকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না”। সূরা আল্ ইমরান - ১০৩

“আল্লাহ এই কিতাব তোমাদের প্রতি (হুকুম) অবতীর্ন করেছেন যে, যেখানে তোমরা শুনবে আল্লাহর কোন আয়াতকে প্রত্যাখান করা হচ্ছে ও তা নিয়ে বিদ্রæপ করা হচ্ছে তোমরা সেখানে বসবে না, যতক্ষন না লোকেরা অন্য প্রসঙ্গে ফিরে আসে। অন্যথায় তোমরাও তাদের মত হবে। জেনে রাখো, নিশ্চয় আল্লাহ মুনাফিক ও কাফেরদেরকে জাহান্নামে একই জায়গায় একত্র করবেন”। সূরা আন্ নিসা - ১৪০

“তিনি সেই মহান সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত এবং “দ্বীনে হক” দিয়ে পাঠিয়েছেন, যাতে তিনি এ দ্বীনকে অন্য সকল দ্বীনের (মতবাদের) ওপর বিজয়ী করেন, চাই তা মুশরিকদের কাছে যতই অসহনীয় হোক না কেন”। সূরা আস্ সফ- ৯

“নিশ্চয় তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের জীবনীর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। এটা তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করে”। সূরা আহযাব- ২১

“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং নিজেদের আমল ধ্বংস করো না”। সূরা মুহাম্মাদ - ৩৩

“যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহরই আনুগত্য করলো”। সূরা আন্ নিসা - ৮০

শিক্ষা ঃ

আল কুরআন কে নিজের জীবনের সংবিধান মেনে নিয়ে প্রকৃত ইসলামের জ্ঞান অর্জন করে আল্লাহ ও রাসূল (সা) এর পূর্ণ আনুগত্যের মাধ্যমে রাসূল (সা) কে জীবনের একমাত্র আদর্শিক নেতা হিসাবে গ্রহণ করা এবং কুরআনের দাবী অনুযায়ী আল্লাহর জমীনে আল্লাহর মনোনিত জীবন ব্যবস্থা ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আল্লাহর ক্ষমা পাওয়া।

রোযার কিছু সামাজিক শিক্ষা ঃ

১। রোযার মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ নির্মুল হয়ে যায়।

২। খাবার থাকা সত্তেও রোযা রাখার মাধ্যমে সারাদিন না খেয়ে থাকার কষ্ট  অনুভবের মাধ্যমে গরীবদের অনাহারে থাকার কষ্ট অনুভব করা যায়।

৩। রোযার মাসে যাকাত আদায়ের মাধ্যমে বেকারত্ব ও দারিদ্রতা দুর হয়।

৪। ফেতরা আদায়ের মাধ্যমে গরীবদের সাথে রোযার ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়া হয়।

৫। রোযার মাসে গরীবদেরকে বেশি বেশি দানের মাধ্যমে গরীব অসহায়দের প্রতি আন্তরিকতা বৃদ্ধি পায়।


কোন মন্তব্য নেই:

পাইলসের হোমিও চিকিৎসা Piles Treatment

https://youtu.be/1mz15phzlL4