বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

কেয়ামতে সবার বিপক্ষে স্বাক্ষী থাকবে

 সুরা: নাহল

আয়াত নং :-89

টিকা নং:86, 87, 


وَ یَوْمَ نَبْعَثُ فِیْ كُلِّ اُمَّةٍ شَهِیْدًا عَلَیْهِمْ مِّنْ اَنْفُسِهِمْ وَجِئْنَا بِكَ شَهِیْدًا عَلٰى هٰۤؤُلَآءِؕ وَ نَزَّلْنَا عَلَیْكَ الْكِتٰبَ تِبْیَانًا لِّكُلِّ شَیْءٍ وَّ هُدًى وَّ رَحْمَةً وَّ بُشْرٰى لِلْمُسْلِمِیْنَ۠


(হে মুহাম্মাদ! এদেরকে সেই দিন সম্পর্কে হুঁশিয়ার করে দাও) যেদিন আমি প্রত্যেক উম্মাতের মধ্যে তাদের নিজেদের মধ্য থেকে একজন সাক্ষী দাঁড় করিয়ে দেবো, যে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে এবং এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবার জন্য আমি তোমাকে নিয়ে আসবো। (আর এ সাক্ষ্যের প্রস্তুতি হিসেবে) আমি এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যা সব জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে৮৬ এবং যা সঠিক পথনির্দেশনা, রহমত ও সুসংবাদ বহন করে তাদের জন্য যারা আনুগত্যের শির নত করে দিয়েছে। ৮৭


তাফসীর : 

তাফহীমুল কুরআন:



টিকা:৮৬) অর্থাৎ এমন প্রত্যেকটি জিনিস পরিষ্কারভাবে তুলে ধরে, যার ওপর হিদায়াত ও গোমরাহী এবং লাভ ও ক্ষতি নির্ভর করে, যা জানা সঠিক পথে চলার জন্য একান্ত প্রয়োজন এবং যার মাধ্যমে হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভুলক্রমে কিছু কিছু তাফসীর লেখক تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ বাক্যাংশটি এবং এর সম-অর্থবোধক আয়াতগুলোর অর্থ করে এভাবে যে, কুরআনে সবকিছু বর্ণনা করা হয়েছে। তারপর তারা নিজেদের এ বক্তব্য সত্য প্রমাণ করার জন্য কুরআন থেকে বিজ্ঞান ও টেকনোলজির অদ্ভূত অদ্ভূত বিষয়বস্তু টেনে বের করতে থাকে।



টিকা:৮৭) অর্থাৎ যারা আজ এ কিতাবটি মেনে নেবে এবং আনুগত্যের পথ অবলম্বন করবে এ কিতাব জীবনের সব ক্ষেত্রে তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবে, একে অনুসরণ করে চলার কারণে তাদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হবে এবং এ কিতাব তাদেরকে এ সুসংবাদ দেবে যে, চূড়ান্ত ফায়সালার দিন আল্লাহর আদালত থেকে তারা সফলকাম হয়ে বের হয়ে আসবে। অন্যদিকে যারা এ কিতাব মানবে না তারা যে কেবল হিদায়াত ও রহমত থেকে বঞ্চিত হবে তাই নয় বরং কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহর নবী তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দিতে দাঁড়াবেন তখন এ দলীলটিই হবে তাদের একটি জবরদস্ত প্রমাণ। কারণ নবী একথা প্রামণ করে দেবেন যে, তিনি তাদেরকে এমন জিনিস দিয়েছিলেন যারা মধ্যে হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীনভাবে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছিল।



ফী জিলালিল কুরআন:


তারপর রসূলুল্লাহ(স.)-এর সাথে তাঁর জাতির ব্যবহারকে কেন্দ্র করে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলাে সেই অবস্থাটাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে, 'আর সেই দিনকে স্মরণ করা দরকার যে দিন আমি, আল্লাহ তায়ালা, প্রত্যেক জাতির মধ্য থেকে একজন সাক্ষ্য দানকারীকে.... রহমত এবং সকল মুসলমানের জন্যে যা সুসংবাদ দানকারী।'(আয়াত ৮৯) এখানে মােশরেকদের যে পরিণতির কথা উল্লেখিত হয়েছে তার আলােকে এবং কেয়ামতের ওই ভয়ংকর দিনে তখন কাফেররা তাদের অলীক দেব-দেবী বা সমাজ পতিদের কাছ থেকে সকল প্রকার সম্পর্ক মুক্তির ঘােষণা দেবে, সেই অবস্থার প্রেক্ষাপটে এবং যখন ওই সব ব্যক্তিত্ব যাদের আল্লাহর সাথে শরীক করা হলে, তারা যখন এই অপরাধের ব্যাপারে তাদের অজ্ঞতার কথা জানাবে তখনকার করুণ ও অসহায় অবস্থাকে সামনে রেখেই মক্কার কোরায়শদের সাথে রসূলুল্লাহ(স.)-এর অবস্থাকে পরিমাপ করা হয়েছে, 'যেদিন প্রত্যেক উম্মত থেকেই একজন সাক্ষ্যদানকারীকে বের করে আনা হবে' অর্থাৎ, সময় মতােই এ অবস্থা তার সকল বিভীষিকা নিয়ে হাযির হয়ে যাবে, আর একই সময়ে। 'হে রসূল, তােমাকেও আনা হবে জাতির ব্যাপারে সাক্ষ্য দেয়ার জন্যে।...' এরপর জানানাে হচ্ছে যে, 'যে কিতাব রসূলের কাছে এসেছে, তা সব কিছুর ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দানকারী।...' অতএব, এ কিতাব নাযিল হওয়ার পর আর কারাে কোনাে তর্কবিতর্ক করার সুঘােগ নেই। এবং কোনাে ব্যক্তির কোনাে ওযর ওজুহাত দেখানাের মতােও কোনো অবকাশ নেই, কারণ মুসলমানদের জন্যে এ কিতাব 'হেদায়াত ও রহমত'। অতএব হেদায়াত ও রহমত যে পেতে চাইবে তার প্রথম কাজ হচ্ছে, ওই কঠিন ও ভয়ংকর দিন আসার পূর্বেই আল্লাহর কাছে পরিপূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে তার হুকুম মতাে জীবন যাপন করা। আর এইভাবে কোরআন মজীদে, আলােচ্য বিষয়টিকে যথাযথভাবে হৃদয়গ্রাহী করার জন্যে কেয়ামতের দৃশ্যাবলী তুলে ধরা হচ্ছে, যেন এ দৃশ্যাবলীর বিবরণ বাস্তব ছবির মতাে মানুষের অন্তর্দৃষ্টিতে ফুটে উঠে তাকে সত্যের দিকে এগিয়ে দিতে পারে।


কোন মন্তব্য নেই:

পাইলসের হোমিও চিকিৎসা Piles Treatment

https://youtu.be/1mz15phzlL4