বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১

যাদের আমল নষ্ট হয়ে যাবে

 সুরা: আল ইমরান

আয়াত নং :- ১১৭


مَثَلُ  مَا  یُنْفِقُوْنَ  فِیْ  هٰذِهِ  الْحَیٰوةِ  الدُّنْیَا  كَمَثَلِ  رِیْحٍ  فِیْهَا  صِرٌّ  اَصَابَتْ  حَرْثَ  قَوْمٍ  ظَلَمُوْۤا  اَنْفُسَهُمْ  فَاَهْلَكَتْهُؕ وَ  مَا  ظَلَمَهُمُ  اللّٰهُ  وَ  لٰكِنْ  اَنْفُسَهُمْ  یَظْلِمُوْنَ


তারা তাদের এই দুনিয়ার জীবনে যা কিছু ব্যয় করছে তার উপমা হচ্ছে এমন বাতাস যার মধ্যে আছে তুষার কণা। যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তাদের শস্যক্ষেতের ওপর দিয়ে এই বাতাস প্রবাহিত হয় এবং তাকে ধ্বংস করে দেয়।৯১ আল্লাহ তাদের ওপর জুলুম করেননি। বরং প্রকৃতপক্ষে এরা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছে।


তাফসীর : 

তাফহীমুল কুরআন:



টিকা:৯১) এই উপমাটিতে শস্যক্ষেত মানে হচ্ছে জীবন ক্ষেত্র। আখেরাতে মানুষকে তার এই জীবনক্ষেতের ফসল কাটতে হবে। বাতাস বলতে মানুষের বাহ্যিক কল্যাণাকাংখাকে বুঝানো হয়েছে। যার ভিত্তিতে কাফেররা জনকল্যাণমূলক কাজ এবং দান খয়রাত ইত্যাদিতে অর্থ ব্যয় করে থাকে। আর তূষারকণা হচ্ছে, সঠিক ঈমান ও আল্লাহর বিধান অনুসৃতির অভাব, যার ফলে তাদের সমগ্র জীবন মিথ্যায় পর্যবসিত হয়। এ উপমাটির সাহায্যে আল্লাহ‌ একথা বলতে চাচ্ছেন যে, শস্যক্ষেতের পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাতাস যেমন উপকারী তেমনি আবার এই বাতাসের মধ্যে যদি তূষারকণা থাকে তাহলে তা শস্যক্ষেতকে সবুজ শ্যামল করার পরিবর্তে ধ্বংস করে দেয়। ঠিক তেমনি দান-খয়রাত যদিও মানুষের আখেরাতের ক্ষেতের পরিচর্যা করে কিন্তু তার মধ্যে কুফরীর বিষ মিশ্রিত থাকলে তা লাভজনক হবার পরিবর্তে মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। একথা সুস্পষ্ট যে, মানুষের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ‌ এবং মানুষ যে ধন-সম্পদ ব্যয় করছে তার মালিকও আল্লাহ। এখন যদি আল্লাহর এই দাস তার মালিকের সার্বভৌম কর্তৃত্ব স্বীকার না করে অথবা তাঁর বন্দেগীর সাথে আর কারো অবৈধ বন্দেগী শরীক করে এবং আল্লাহ‌ প্রদত্ত সম্পদ ব্যয় করে ও তাঁর রাজ্যের মধ্যে চলাফেরা ও বিভিন্ন কাজ কারবার করে তাঁর আইন ও বিধানের আনুগত্য না করে, তাহলে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার এ সমস্ত কাজ অপরাধে পরিণত হয়। প্রতিদান পাওয়া তো দূরের কথা বরং এই সমস্ত অপরাধ তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করার ভিত্তি সরবরাহ করে। তার দান খয়রাতের দৃষ্টান্ত হচ্ছেঃ কোন চাকর যেন তার মনিবের অনুমতি ছাড়াই তার অর্থ ভাণ্ডারের দরজা খুলে নিজের ইচ্ছামত যেখানে সঙ্গত মনে করলো সেখানে ব্যয় করে ফেললো।



ফী জিলালিল কুরআন:


এরশাদ হচ্ছে, “যারা কুফরী করে তাদের ধনৈশ্বর্য ও সন্তান সন্তুতি আল্লাহর কাছে কখনও কোনো কাজে লাগবে না। তারা জাহান্নামবাসী, ....... এই পার্থিব জীবনে তারা যা ব্যয় করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে হিমশীতল কিছু বায়ু ..... ।” (আয়াত ১১৬-১৭) এভাবেই এ সত্যটি কোরআনের চমকপ্রদ বাচনভংগীর প্রকাশের মধ্য দিয়ে একে একটি চলন্ত ও জীবন দৃশ্যরূপে অংকিত হয়েছে, তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তাদেরকে আল্লাহর পাকড়াও থেকে রক্ষা করতে পারবে না, তা তাদেরকে আযাব থেকে বাচানোর জন্য মুক্তিপণ হবারও যোগ্য হবে না। তারা দোযখেরই অধিবাসী হবে। তারা নিজেদের যতো ধন-সম্পদই দান করুক না কেন তা বৃথা যাবে ও বিনষ্ট হবে। এমনকি তারা যদি এই দান করাকে সৎ কাজ ও পূণ্য কাজ মনে করে, তবু তাতে কোনো লাভ হবে না। ঈমানের সাথে যুক্ত না হলে কোনো সৎকাজ সৎকাজ বলেই গণ্য হবে না। কিন্তু আমরা যে ভাবে এ কথাটি ব্যক্ত করি কোরআন কিন্তু সে ভাবে ব্যক্ত করে না। কোরআন এটাকে একটি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত দৃশ্যের ছবিতে অংকন করে। কোরআনের অংকিত এ দৃশ্যের প্রতি দৃষ্টি দিলে আমরা দেখতে পাই, আমরা যেন একটা উর্বর ও শস্য-শ্যামল ক্ষেতের সামনে দাড়িয়ে আছি। হঠাৎ ঠান্ডা ও তুষারময় হীমশীতল ঝড় শস্যক্ষেত্রটাকে ধ্বংস করে দেয়। এখানে ব্যবহৃত “সিররুন' শব্দটির ধনাত্মক রূপ এমনই যেন তা প্রচন্ড জোরে নিক্ষিপ্ত কোনো বস্তুর ঝংকার দ্বারা তার আযাবকে বাস্তবায়িত করার দৃশ্য তুলে ধরছে, আর তাতেই যেন গোটা শস্যক্ষেত্রটি বিধ্বস্ত ও বিরান হয়ে যাচ্ছে।এখানে এমন একটি মুহূর্তের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যাতে মুহুর্তেই সংঘটিত হয়ে যায় ধ্বংস ও বিনাশ । মুহূর্তের সর্বনাশা ঝড়ে পুরো শস্যক্ষেত্র নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এটা হচ্ছে দুনিয়াবী জীবনে কাফেরদের দানশীলতার উদাহরণ । যাকে দৃশ্যত সৎকর্ম ও পুণ্যকর্ম বলেই প্রতীয়মান হয়। ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিসহ যে সব নেয়ামত তাদের অধিকারে রয়েছে তার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে যে, এর সবই ধ্বংসের মুখে নিপতিত হবে । তা দ্বারা কোনো সুফলই পাওয়া যাবে না। 'আল্লাহ তাদের ওপর কোনো যুলুম করেননি, বরং তারাই নিজেদের ওপর যুলুম করেছে ।' কেননা, তারাই আল্লাহর বিধান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে যে বিধান ছিলো যাবতীয় কল্যাণ ও পুণ্যের আধার ও উৎস। যে বিধান যাবতীয় সৎকাজকে একটা সঠিক ও নির্ভুল গন্তব্যের সাথে যুক্ত করে দিয়েছিলো, যে বিধানের একটা সুবিদিত পথ ও প্রণালী রয়েছে। তারা নিজেদের জন্যে নিজেরাই বিপথগামিতা এবং আল্লাহর অটুট রশির রক্ষাব্যবস্থা থেকে স্খলিত হওয়ার পথকে বেছে নিয়েছে। তাই যখন তাদের সকল সংকর্ম এমনকি দৃশ্যত সৎ উদ্দেশ্যে করা সকল দান পর্যন্ত বৃথা চলে গেলো, ধ্বংস হয়ে গেলো, তখন কোনো সহায়-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি আর তাদের কোনোই কাজে লাগলো না। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে কোনো যুলুম ছিলো না। এটা ছিলো তাদের নিজেদের ওপর নিজেদেরই যুলুম । নিজেরাই গোমরাহী ও ভ্রষ্টতাকে বেছে নিয়ে নিজেদের পায়ে নিজেরাই কুঠারাঘাত করেছিলো । এ কথাগুলো থেকে স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, কোনো চেষ্টা সাধনা বা কর্মকান্ডের কোনো ফল বা মূল্য থাকে না- যতক্ষণ তা ঈমানের সাথে যুক্ত না হয় এবং তার পেছনে ঈমানী প্রেরণা সক্রিয় না থাকে। এটা স্বয়ং আল্লাহর ঘোষণা ৷ এর পর মানুষের কিছু বলার অবকাশ নেই । আল্লাহর এ সিদ্ধান্ত নিয়ে কেবল তারাই বাদানুবাদ করতে পারে যারা আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে কোনো জ্ঞান, কোনো দীপ্তিময় গ্রন্থের সহায়তা ছাড়া শুধু বাদানুবাদ করতেই অভ্যস্ত ।


কোন মন্তব্য নেই:

পাইলসের হোমিও চিকিৎসা Piles Treatment

https://youtu.be/1mz15phzlL4